সাভারে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড: সীমান্ত এলাকা থেকে আসাম গ্রেপ্তার, আদালতে জবানবন্দি
মোস্তাবিন সিয়াম বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:
সাভারে অসামাজিক ও অনৈতিক সম্পর্কের জেরে ধর্ষণের পর এক তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোঃ মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ২ জুলাই ২০২৬ খ্রি. দুপুর ১:৩০ থেকে বিকেল ৩:১৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময়ে সাভার থানার বড়দেশী এলাকায় ভাড়া বাসায় মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মোছাঃ শারমিন আক্তার (৩৯)। শয়নকক্ষ থেকে তাঁর রক্তাত লাশ উদ্ধার করা হয় এবং সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ শাওকাত হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৮, তারিখ: ০৩/০৭/২০২৬)। পরবর্তীতে গত ৮ জুলাই পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পিবিআই-এর পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ খালেদ।
যেভাবে গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান শনাক্ত করেন। গত ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার সীমান্ত এলাকা ফুলখা মন্ডলপাড়া থেকে মোঃ মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি থেকে জানা যায়, আসামি মাসুম ইসলাম ‘প্রজাপতি পরিবহন’-এর লাইনম্যান এবং সাভারের কাতলাপুরে একটি চায়ের দোকানের কাজ করত। সেই চায়ের দোকানের পেছনেই ভিকটিম শারমিন আক্তার ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকেই তাঁদের পরিচয় ও অনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়।
ঘটনার আগের রাতে তাঁদের মধ্যে মোবাইল ফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ঘটনার দিন আসামি ভিকটিমের বাসায় গিয়ে পুনরায় মনোমালিন্যে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ভিকটিমের ব্যবহৃত ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায় আসামি। ঘটনাস্থল থেকে শারীরিক সম্পর্কের আলামত ও সিগারেটের খোসাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে।
পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব এম.এন. মোর্শেদ, পিপিএম বলেন,
“চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পিবিআই-এর ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। আমাদের নিরলস প্রচেষ্টায় মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে মূল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পিবিআই বিশ্বাস করে—বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ও পেশাদার দক্ষতার সামনে অপরাধী যতো দূরেই পালানোর চেষ্টা করুক না কেন, সত্য উদঘাটিত হবেই এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
বর্তমানে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।